Wednesday, 1 May 2013

হে ভগবান, তাঁদের অপরাধ, তাঁরা শুধু তোমার পুজো করে !

      প্রতিবেশী বাংলাদেশে (পূর্বে পাকিস্থান) গত ৬৫ বছর ধরে সংখ্যালঘু হিন্দুদের বিরুদ্ধে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান চলছেই। বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ, ইসলামী ঐক্যজোট, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)  এর মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও হিন্দু নিধনে তারা একাট্টা। মুখে দুই দলই ভালো ভালো কথা বলবে, জিতে সরকার বানালে ভেঙ্গে দেওয়া মন্দির নতুন করে বানিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেবে।
কিন্তু ক্ষমাতাই এলেই প্রতোক্ষ কিমবা পরোক্ষ ভাবে হিন্দু মন্দির ভাঙ্গতে সাহায্য করবে। এটাই কি বাংলাদেশের আজকের গনতন্ত্র ?

   বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চললেও তথাকথিত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় (International Community) নিশ্চুপ রয়েছে।
 যেসব আদর্শের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল তার একটি হল ধর্মনিরপেক্ষতা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে ধর্মনিরপেক্ষতা, অসাম্প্রদায়িকতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ও শোষনমুক্ত সমাজকেই বোঝায়। কাজেই এইগুলাকে না মানা মানে বাংলাদেশের জন্মকে অস্বীকার করা। ধর্মনিরপেক্ষতার মানে হল রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক নিজ নিজ ধর্ম পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে। এইখানে কোন কিন্তু নাই। একজন মুসলমান তার নামাজ, রোযা, হজ্ব, জাকাত পালন করার পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে এবং এটা নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্র তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিবে। একজন হিন্দু তার পূজা-অর্চনাপালন করার পূর্ণ স্বাধীনতা পাবে এবং রাষ্ট্র তাকে প্রয়োজনীয়সহায়তা দিবে। শুধু তাই নয়, রাষ্ট্র তার প্রতিটিনাগরিক যাতে ‘নির্বিঘ্নে’ নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারে সেটাও নিশ্চিত করবে। কোন কারণে কোন নাগরিকের ধর্মীয় কাজে বিঘ্ন ঘটলে রাষ্ট্র তাকে সেই বিঘ্নদূর করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। আর এসবই বাংলাদেশের সংবিধানের ১২ এবং ৪১ অনুচ্ছেদে আছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। কাজেই অন্যের ধর্মকে হেয় করার কোন সুযোগ নাই। আপনি ব্যক্তিগতভাবে নাস্তিক হতে পারেন, সেটা আপনার ব্যক্তিগত বিষয় কিন্তু অন্যের নাগরিক অধিকারকে হেয় করার অধিকার রাষ্ট্র আপনাকে প্রদান করে না। ঠিক একইভাবে আপনি আস্তিক হতে পারেন, কিন্তু কোন নাস্তিককে ধর্ম পালন না করার জন্য হেয় করারও আপনার কোন অধিকার নাই। এটাই ধর্মনিরপেক্ষতা।সবার ধর্মীয় অধিকার সমান। কিন্তু দিন দিন সংখ্যালঘু বলে হিন্দু দের উপর যে অত্যাচার হচ্ছে তা মানা যায় না। যারা ধর্মগত ভাবে হেয় করছে, তাদের ইতিহাস ক্ষমা করবে না। 
  
      সম্প্রতি বাংলাদেশে প্রায় ২ হাজার মন্দির-বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত, আক্রান্ত হিন্দুরা

      জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হত্যা, অগ্নিসংযোগ, নির্যাতন, লুটপাট ও মঠ-মন্দির ধ্বংসের মতো ঘটনা ঘটছে।



   প্রতিবাদে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ও বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মিলনায়তনে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের প্রতি দাবি জানান—বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসারের সমন্বয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া, সাম্প্রদায়িক সহিংস ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় ক্ষতিগ্রস্ত উপাসনালয়গুলো আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং ২০০১ সালের নির্বাচনের পর সংখ্যালঘুদের নিপীড়নের ঘটনা তদন্তে শাহাবউদ্দিন কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন।

     গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশ দেওয়ার পর পর সারা দেশে বিশেষ মহল অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, এই অরাজক পরিস্থিতি তৈরিতে একাত্তরের মতোই ধর্মীয় সংখ্যালঘু পরিবারকে বিশেষভাবে টার্গেট করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নোয়াখালীসহ বেশ কিছু জেলায় চার দিন ধরে একটানা একতরফা সাম্প্রদায়িক সহিংসতা চালানো হয়েছে এবং হচ্ছে। এ সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দেড় হাজারের বেশি বাড়িঘর ও অর্ধশতাধিক উপাসনালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেককে নির্মমভাবে জখম করে হত্যা করা হয়েছে। সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয়েছে। আগুন দিয়ে বাড়ির পর বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সংকটকালে দু-একটি ব্যতিক্রম বাদে সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাংসদ সহ জনপ্রতিনিধিদের দেখা যায়নি। এ অবস্থায় ২০১৪ সালের নির্বাচন সামনে রেখে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য ভয়াবহ দিন অপেক্ষা করছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।


   আর পাকিস্তানে হিন্দু নির্যাতন তো সর্বজন বিদিত। 

    পাকিস্তানের হিন্দুদের প্রতি সর্বদা বৈষম্যমূলক আচরণ চলে :- সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা, ঘর-দুয়ারে অগ্নিসংযোগ, সম্পত্তি ও দোকানপাটে লুঠতরাজ, মহিলাদের অপহরণ করিয়া এবং বলপূর্বক ধর্মান্তরিত করিয়া বিবাহ— নির্যাতনের তালিকা দীর্ঘ। হিন্দুরা যেখানে ১৯৫১ সালে পাক জনসংখ্যার ২২ শতাংশ ছিলেন, এখন তাঁরা ২ শতাংশেরও কম।
     আবার অন্য দিকে পাকিস্তান হইতে হিন্দু পরিবারগুলির ভারতে চলে আসার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। পর্যটকের ভিসার ব্যবস্থা করে ভারতে পৌঁছাবার পর ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও তাঁরা আর পাকিস্তানে ফিরে যেতে চাইছে না।



   সম্প্রতি (২০১২-১৩) কুম্ভমেলায় যোগ দিতে আসার অজুহাতে পাসপোর্ট বানিয়ে রাজস্থান সীমান্ত দিয়া ভারতে প্রবেশ করা ৪৮০ জন পাকিস্তানি হিন্দু ভিসার মেয়াদ ফুরালেও স্বদেশে ফিরছেন না। ভারতেই ‘রাজনৈতিক আশ্রয়’ চাইছেন।

    সর্বশেষ খবর, ২০১৩ এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের শেষেই এই ‘তীর্থযাত্রী’ দলের ভিসা ফুরাইয়া যাওয়া সত্ত্বেও ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক আপাতত তাঁহাদের ভিসার মেয়াদ আরও এক মাস বাড়াইয়া দিয়াছে। এই 480 জনের মধ্যে 1 জন শিশু মারা গেছে। দিল্লিতে তারা এখন জীবন-যাপন করছে। একটি বেসরকারি সংস্থা তাদের খাবারের বাবস্থা করেছে। তাদের একটাই আর্তনাদ, তারা এই হিন্দুস্তানের মাটিতে না খেয়ে মরতেও রাজি আছে, কিন্তু পাকিস্তান ফেরত যেতে রাজি নেই।

   আর ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক রা নাকি হিন্দু ধর্মাবলম্বী! অবস্থাদৃষ্টে এই তথ্যে বিশ্বাস করা ক্রমেই কষ্টকর হয়ে উঠছে। আমাদের ভারতেও প্রকৃত হিন্দুরা নীরবে সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছেন কিনা সেটা জানার জন্য বোধহয় সমীক্ষার সময় এসেছে।

   শেষে এইটুকু বলবো যে বাংলাদেশের জামাত শিবির ধর্মের নামে এভাবে মানুষ কে লেলিয়ে দিয়ে জঘন্য কাজ করেছে। হ্যাঁ, সহবাগ আন্দোলন কে সমর্থন করি মনে প্রানে। চাই সহবাগ আন্দোলন আরও এগিয়ে যাক। আসলে জামাত নেতা সউদি ও অন্যদের ফাঁসি কে কেন্দ্র করে শুধু হিন্দুরাই মারা গেছে এমন নই। অনেক মুসলিমও অকালে প্রাণ হারিয়েছে। তারা কি দোষ করেছিল ? নাহ, জামাত শিবির বা তার সহযোগী বি.এন.পি. র কাছে এই প্রশ্নের উত্তর আশা করা বৃথা।

       আর মনে খুব কষ্ট পেলাম যখন শুনলাম আমার বাংলাদেশের হিন্দু বন্ধুদের বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে; মন্দির ভেঙ্গে দিয়েছে। আজ তারা অসহায়, আজ তারা বিপন্ন। আজ তারা একটু আশ্রয়ের খোঁজে, মাথা গোঁজার আশ্রয়। আজ তারা নিজেদের দেশে নিজেরাই পরাধীন। ১৯৭১ এর আগেও তারা পাকি দের কাছে পরাধীন ছিল, আর এখন নিজেদের দেশেরই কিছু '৭১ এর দেশদ্রোহীর কাছে পরাধীন। সত্যি ভগবান আর কত শাস্তি দেবে তাদের ? তাদের অপরাধ তারা শুধু তোমার পুজো করে !!! আসলে একদিন হয়তো তাণ্ডব থামবে, দেশটা (bd) স্বাভাবিক সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখবে কিন্তু এই পরিবার যে কান্না আজ কাঁদছে, সেই কান্নাই তখনো কাঁদবে। পরিবারটির পাশে তখন কেউ থাকবে না! যেন  হিন্দু বলে তাদের মানবাধিকার থাকতে নেই! মৌলবাদী পাকিস্তানি ও বাংলাদেশের জামাত শিবিরের অত্যাচার ধর্মের নামে বর্বরতার চরমোতম নিদর্শন হয়ে ইতিহাসে সাক্ষ বহন করবে। ইতিহাস তাদের মাফ করবে না। আশাকরি বাংলাদেশের সাধারন মুক্তচেতনার মানবিক মানুষ এর প্রতিবাদ করবে।

এটা দেখতে পারেন -- আমার চোখে বাংলাদেশ

-------------------------------^^^^^^^^^^^^^^----------------------------

>>.........>>...... কিছু প্রাসংগিক লিংক ..............>>











Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...